কবিতার সময় কখন হয়? এই উৎকন্ঠায় বাইরের মুচমুচে সন্ধ্যে পেড়িয়ে যখন ভিতরের আড্ডায় পৌঁছাই, বেশ বুঝতে পারি সময়ের কবিতায় কবির যতক্ষণ না উত্তরণ হয়, ততক্ষণ কবিতার সময় হয় না! এই দুই জীবন একসাথে নিয়ে চলার যে টানাপোড়েন তাতে বোধহয় দুটো জীবনই কমবেশি চাপে থাকে। তবে এর মধ্যে যেটি আমার নিজের রচনা, নিজের সন্তান তার দুঃখেই দুঃখ বেশি হয়। উত্তরাধিকারে যে জীবন এল তাকে হেলাফেলা মনে হয়। তবু সে ভালোবাসে। কাছে টেনে নেয় আমার সন্তানকে।
কিন্তু আমি যেমন বেয়াড়া, তেমনই আমার সন্তানটি। কথায় কথায় লাথ্থি মারে উত্তরাধিকারীকে। উত্তরাধিকারে যে রত্ন সম্ভার জীবন এল, যে পদে পদে নানা ঝক্কির মধ্যেও বেশ নরম কাঁথায় সাজিয়ে রেখেছে পথচলাকে, তার এই ভালোবাসা ঝামেলা বাড়ায়। আমার বেয়াড়াটি টিয়াপাখির মতো ঠোঁট ফুলিয়ে আড়চোখে দেখে, এই প্রেম বশ্যতা মানাবার আধুনিক ছক নয় তো! রথশ্চাইল্ডের ব্যাঙ্ক খুলবে ভেবেছ এমন করে! দেবো লেলিয়ে কিম ভাইকে? জং ধরিয়ে দেবে প্রতিটি জয়েন্টে।
এই টম অ্যান্ড জেরি, থুরি টম-টম চলতেই থাকে। কারণ উত্তরাধিকারে জীবন এল, সে শান্ত-স্থির লক্ষ্যে অবিচল। কোনো ন্যাকামি নেই। সে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। আমার হুঁদোটা মুখ খুললেই ছড়াবে। দুলাইন লিখতে গেলেও ধপাস! কি যে লিখছে আর বলছে , কেউ কিস্যু বুঝল না! আর সে ঠোঁট ফুলিয়ে বলে, " যোগ্যতার দাম পেলাম না!", উত্তরাধিকারী হাসে। অট্টহাস্য নয়। চশমার তল বরাবর স্মিত। লুভ্র্যেতে যে হাসি আছে লিওনার্দোর, তেমন হাসি হাসে।
সিগারেট বেড়ে যায়। ধুঁয়ো গোল করে, ধুঁয়ো ঘন করে, ধুঁয়ো ধুঁয়ো করে আমার বোকাছেলেটা। আর শান্ত গঙ্গার হাওয়ায় সব মিশে যায় এদিক ওদিক। কিছুই খুঁজে পায়না। টুকরো টুকরো কাগজের গুড়োয় রাশি রাশি খবর টুকে রাখেন উত্তরাধিকারী। ট্রাম্পের কন্যা "ওয়েষ্টার্ন ওয়াল"-এ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আর বঙ্কিম সেতুতে স্ট্রাইপ জামা পড়া এক বৃদ্ধ রাস্তায় পড়ে পড়ে ভরদুপুরে মারা গেছে....আমার পাগলটা অবাক হয়ে বলে, " এটা
The boy in stripped pajama র বাচ্চাটা নয় তো!"।
উত্তরাধিকারী বলে, " না না, এতো কলকাতায় ওটা-" মাঝপথে থেমে যায়, স্নেহের হাত রাখে কৌতূহলী পিঠে, "তুই বাদ দে ভাই" বলে সেই লুভ্র্যের হাসি হাসে। আরও খবর একজোট করে। কাবুলে বিস্ফোরণ আর হিটলারের জাঙ্গিয়া ৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। এবার হেসে ওঠে পাগলটা। অট্টহাস্য। মাননীয় মন্ত্রী বলেন " শূর্পনখা নাকি!" পাগলটা হাসতে হাসতে বলে,"আমার উঁচু নাক নেই গো লক্ষ্মণ! তোমার কাটতে অসুবিধা হবেনা তো!"।
এ
ইসব ঝামেলা চলতেই থাকে। উত্তরাধিকারী ফর্ম্যাল জামা ইন করে সুন্দর ধূসর প্যান্ট পড়ে খবর একজোট করে যায়। আইফেল টাওয়ার সেইন নদীতে প্রায় নিমজ্জিত, তাইওয়ানে ব্যপক ভূমিকম্প আর ভারতে সবাই ভালো আছেন! তার ঘোর কাটে জানলার কাঁচে একটা টোকার শব্দে। একটা ল্যাঙটো ছেলে
বলে, "ফ্যান দে মা- ভাত দে মা", উত্তরাধিকারী প্রশ্ন করে, "তুমি কোথায়
থাকো?", বাচ্চাটা বলে, "ইয়েমেনে না গড়ফায় ঠিক খেয়াল নেই, এটা ইয়ে ৪৩ না ২০১৮
গো?"। উত্তরাধিকারী চোয়াল শক্ত করে কাঁচটা তুলে দেয়। কাজের মাঝে যত ফালতু ঝামেলা!
বাচ্চার ছদ্মবেশে থাকা আমার খ্যাপাটা হেসে ওঠে, "ভাই, তুই আমায় চিনতে পারলিনা!"। দুজনে গলা জড়িয়ে হাসতে থাকে। এদিকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান বোধহয় সেইন নদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করলেন ! কবিতার সময় হয় অবশেষে-
"লুভ্র্যেতে বৃষ্টি হচ্ছে মোনালিসায়-
সেইনের জল বাড়ছে আরও একবার্
#Metoo
বলে
উঠেছি #NotInMyName বারবার !!!"