রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫
ঈশ্বর, ধর্ম ও ক্ষমতার রাজনীতি
" (ঈশ্বর) আপনারই অনুগ্রহে
বেড়ে যায় নিরন্ন কৃষকের দেনা
(ঈশ্বর) আপনারই অনুগ্রহে
নিরন্ন কৃষকের লাশ ফেলে
অট্টহাস্য করে সানলাইট সেনা "
নবারূণের গূণগান করছি না, সে যোগ্যতা আমার নেই । এ শ্লেষাত্মক পংক্তি গুলি কি যথার্থ নয় তাদের জন্য যারা বলেন , সবই তার ইচ্ছা, মানে ওই " ইচ্ছাময়ী তারা তুমি মা আর কী "!
বৃষ্টি পড়ে তার ইচ্ছায়, রোদ হয় তার ইচ্ছায়, তাপসী মালিকের হত্যা ,ইসলামিক স্টেটস অব ইরাক এণ্ড আল্-সাম (ISIS) এর বাড়বাড়ন্ত, নির্ভয়ার গণধর্ষণ ,ঢাকায় ব্লগারকে বাসায় ঢুকে হত্যা, এমন কী আপনার মাইনে না বাড়া পর্যন্ত সবই তার ইচ্ছা । এমন মানে ছাড়া ইচ্ছা যার হয় তাকে তো সমাজ পাগল বলতে শিখিয়েছে । আবার তাকেই বলতে হবে ঈশ্বর! সর্বেসর্বা! একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না ?
এখন এই ইচ্ছার প্রতিটি যাতে আপনার অনুকূলে হয় তার ও উপায় আছে, যেমন উপোস,রোজা,লেন্ট বা পূজা ,বলি ইত্যাদি । মানে ঈশ্বরকে manupulate করা যায়! তো এহেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়েই পৃথিবীতে কিছু পাগল প্র্শ্ন করেছিল ,করছেও বটে । কিন্তু অজ্ঞতার ,মধ্যমেধার শব্দব্রক্ষ সব চুপ করিয়ে দিয়েছে ।
না, ঈশ্বরের অস্তিত্বকে চোখ বন্ধ করে অস্বীকার করার কোনও ইচ্ছা আমার নেই । আসুন বরং যুক্তির আলোয় ঈশ্বর নিয়ে দু-চার কথা বলা যাক ।
ঈশ্বর আসলে কি - একটি বিমূর্ত ধারণা ,যে বা যিনি বা যারা নাকি সর্বশক্তিমান ,কৃপাময় ,সর্বোচ্চ ক্ষমতার,ভালবাসার,ক্ষমার,প্রেমের, জ্ঞানের, বিদ্যার অধিকারী ।মানুষ , যে নাকি প্রাণিত্বের সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ তার কাছে আবার সর্বোত্তম হল ঈশ্বর । মানুষ যে প্রাণিত্বের সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ তার কারণ তার চিন্তা করার ক্ষমতা, তুলনামূলকভাবে বেশি অভিযোজনের ক্ষমতা এবং পরিবর্তন তথা বিপ্লবের লিপ্সা ।বিপ্লব মানে ঝাণ্ডা , আর মিছিল নয়। বিপ্লব মানে সর্বাত্ম্ক বদল । যেদিন মানুষ আগুনের ব্যবহার শিখেছিল সেদিন বিপ্লব হয়েছিল ,যেদিন চাকা আবিষ্কার হয়েছিল সেদিন বিপ্লব হয়েছিল।এহেন বিপ্লবী ও চিন্তাশীল প্রানী মানুষ কি ঈশ্বরের স্রস্টা না ঈশ্বর মানুষের ?
মানব সভ্যতার ইতিহাসে যদি আমরা নজর দেই তো দেখব যে নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হতে হতে মানুষ ক্রমশ সে বাধা অতিক্রমের পথ শিখিয়েছে আর মানব সভ্যতা এগিয়ে চলেছে । মানব সভ্যতার ইতিহাস মূলত তার অভিযোজনের ইতিহাস । সেই ইতিহাসই দেখিয়েছে যে প্রকৃতির দুর্যোগকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে মানুষ ঈশ্বরের শরনাপন্ন হয়েছে ।
অর্থাৎ মানুষের ভীতি, অজ্ঞতা, দুর্বলতা থেকে ঈশ্বরের সৃষ্টি । ঈশ্বর আদতে এক বিশ্বাস যার বাস্তবিক অস্তিত্ব অনুভব করা যায়নি । যার রং, বর্ণ, গন্ধ, আকার সবই কল্পনায় ।
হিন্দু, খ্রিষ্টান্, ইহুদী, মুসলিম ও আর হাজারো ধর্মের বা ধর্মগুরুর অনুগামী বা বিশ্বাসীরা হয়তো এখানেই এ লেখা পড়া বন্ধ করে দেবেন । কারণ , আমার এই মতামত তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিকে আঘাত করে । তাদের ধর্মের উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন করে । তাদের ধর্মগুরুদের মিথ্যাবাদীতে পরিনত করে । না, তারা হয়তো মিথ্যাবাদী নয় । তারা হয়তো অনুভব করেছেন যে তারা ঈশ্বর কে দেখেছেন, ঠিক যেভাবে " লগে রহো মুন্নাভাই" ছবিতে মুন্নাভাই গান্ধিজিকে দেখেছিলেন । হ্যা, আমি সিজিওফ্রেনিয়ার কথা বলছি । "ঈশ্বর" নিয়ে আলোচনার মাঝে বাজার চলতি হিন্দি সিনেমার কথা বললাম বলে আপনি হয়তো হাসছেন ! কিন্তু এর থেকে সহজলভ্য উদাহরণ আর পেলাম না ।
তবু ঈশ্বরের এই অযৌক্তিক মানবিক সৃষ্টিতে তেমন অসুবিধা ছিলনা,যদি এর দ্বারা কোনো ক্ষতি না হত । শতহোক ভীতি মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য । জনবিশেষে তার পরিমান ভিন্ন । এই ভীতি নামক এই মানসিক পীড়ার এক দাওয়াই ঈশ্বর নামক অদৃশ্য প্রতিস্ঠানটি।
না ,ঈশ্বর ঠিক কোনও প্রতিস্ঠান নয় । তিনি বিমূর্ত ,তিনি কল্পনা । এই বিমূর্ত কল্পনার উপর ভর করে গড়ে উঠেছে কিছু প্রতিস্ঠান । যাদের আদিরূপ হল ধর্ম । ভাষা যদি মানুষের মধ্যে বিভেদের প্রথম কারণ হয় , তো ধর্ম প্রধান।
সমস্ত ধর্মই সার্বভৌম ভ্রাতৃত্বের কথা বলে , কিন্তু ভ্রাতৃত্ব আজ ভঙ্গুর শুধুমাত্র ধর্মের জন্য । উদাহরণ দিয়ে এ লেখা বাড়ান অর্থহীন । তার চেয়ে বরং খতিয়ে দেখি সব ধর্মই কেন একই দাবি করে এবং সবাই কেন ব্যর্থ । আসলে, মানুষ যেদিন বুঝেছে একা থাকায় সুখ নেই , সেদিন সে দল গড়েছে আর সেদিনই সে ক্ষমতার আস্বাদ পেয়েছে । ঈশ্বর , হল সেই ক্ষমতার অন্যতম চাবিকাঠি । ভবিষ্যতের ভীতি , এই ধারণাকে সম্বল করে যেমন হাজারো Insurance company আজ মুনাফা লুটছে ,তেমনি ধর্ম তথা ধর্মগুরুরা ।
এদেশের হাজারো পৌরাণিক কাহিনী সাক্ষী আছে মুনি,ঋষিদের অভিশাপের ভয়ের ।এই ক্ষমতায়নের জন্য বলপ্রয়োগ হয়েছে বারবার। ভারতবর্ষের মুঘল আমল বা তার পূর্ববর্তী পশ্চিম্-মধ্য এশিয়ার শক্তিদের আক্রমণের যুগে জোর করে ইসলামে দীক্ষা দেওয়া হয়েছে । ইওরোপীয় শক্তি সেভাবেই খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষা দিয়েছে । এই হাল আমলে মঙ্গলে যখন পৌছে গেছে ভারতীয়যান তখন আবার হিন্দু ধর্মগুরুরা "ঘর ওয়াপ্সি" নামক হিন্দুত্বকরণের কর্মসূচী নিয়েছে ।
আসলে ধর্মের প্রতি আনুগত্য মানে ধর্মগুরুর প্র্তি আনুগত্য । ধর্মগুরুর প্র্তি আনুগত্য সেই ধর্মগুরুর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । এই ক্ষমতায়নে ঋদ্ধ ধর্মগুরুই তার ভক্ত্দের চালিকাশক্তি । এহেন ক্ষমতার ভরকেন্দ্ররা বরাবরই রাস্ট্র্শক্তির ধারক ও বাহক ।
তাহলে কি শুধুমাত্র ভবিষ্যতের অজ্ঞতা, ভীতি ,ক্ষমতায়নের দুষ্ট চক্রান্ত ই এহেন বিষবাষ্প সম্পন্ন ধর্মের দাসত্ব করতে বাধ্য করেছে মানুষকে ? উত্তরটি একই সাথে হ্যা এবং না । ভবিষ্যতের অজ্ঞতা, ভীতি,ক্ষমতায়নের দুষ্ট চক্রান্ত অবশ্যই কারণ , কিন্ত আরও বড় কারণ রাস্ট্রশক্তির পরিচালনার ব্যর্থতা ।
যখনই কোনও নতুন শক্তি আক্রমণ করেছে । তখনই ধ্বংসের ক্রমান্বয় ধারাবাহিক প্রয়োগ ঘটেছে । অত্যাচারে ধস্ত সাধারণ নরনারীর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে । তখনই ধর্মীয় সংগঠন গুলিকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক কাজকর্মের ডালি নিয়ে । ত্রস্ত মানুষ তাদের আশ্রয় খুজেছে, ধর্মকে বিপদের দিনে খড়-কুটোর মত জড়িয়ে ধরেছে ।
আবার যখনই রাস্ট্র তার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে , তখনই বিদেশি শক্তি ধর্মের ভেক ধরে তছনছ করে দিয়েছে । যেভাবে আজ ISIS সিরিযার আল আসাদ সরকারকে আক্রমণ করেছে । উঃ পূঃ ভারতে চীন আক্রমণ করেছে ,কাশ্মীরে পাকিস্তান আক্রমণ করেছে ।
অর্থাৎ, ধর্ম হল সেই দু মিনিটে তৈরী স্বাস্থ্যকর খাবার, বাস্তবিক যা খেলে ক্যানসার হতে পারে! আদতে ধর্মের মূলে যে ঈশ্বর , তার অস্তিত্বই অনাবিষ্কৃত । তার অস্তিত্বের যাবতীয় যুক্তি ই আমাদের অজ্ঞতার উত্তর । আমরা যদি নিজেদের অজ্ঞতাকে স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ না করি তাহলে ঈশ্বর অপ্রয়োজনীয় ।ধর্ম ততোধিক !
বেড়ে যায় নিরন্ন কৃষকের দেনা
(ঈশ্বর) আপনারই অনুগ্রহে
নিরন্ন কৃষকের লাশ ফেলে
অট্টহাস্য করে সানলাইট সেনা "
নবারূণের গূণগান করছি না, সে যোগ্যতা আমার নেই । এ শ্লেষাত্মক পংক্তি গুলি কি যথার্থ নয় তাদের জন্য যারা বলেন , সবই তার ইচ্ছা, মানে ওই " ইচ্ছাময়ী তারা তুমি মা আর কী "!
বৃষ্টি পড়ে তার ইচ্ছায়, রোদ হয় তার ইচ্ছায়, তাপসী মালিকের হত্যা ,ইসলামিক স্টেটস অব ইরাক এণ্ড আল্-সাম (ISIS) এর বাড়বাড়ন্ত, নির্ভয়ার গণধর্ষণ ,ঢাকায় ব্লগারকে বাসায় ঢুকে হত্যা, এমন কী আপনার মাইনে না বাড়া পর্যন্ত সবই তার ইচ্ছা । এমন মানে ছাড়া ইচ্ছা যার হয় তাকে তো সমাজ পাগল বলতে শিখিয়েছে । আবার তাকেই বলতে হবে ঈশ্বর! সর্বেসর্বা! একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না ?
এখন এই ইচ্ছার প্রতিটি যাতে আপনার অনুকূলে হয় তার ও উপায় আছে, যেমন উপোস,রোজা,লেন্ট বা পূজা ,বলি ইত্যাদি । মানে ঈশ্বরকে manupulate করা যায়! তো এহেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়েই পৃথিবীতে কিছু পাগল প্র্শ্ন করেছিল ,করছেও বটে । কিন্তু অজ্ঞতার ,মধ্যমেধার শব্দব্রক্ষ সব চুপ করিয়ে দিয়েছে ।
না, ঈশ্বরের অস্তিত্বকে চোখ বন্ধ করে অস্বীকার করার কোনও ইচ্ছা আমার নেই । আসুন বরং যুক্তির আলোয় ঈশ্বর নিয়ে দু-চার কথা বলা যাক ।
ঈশ্বর আসলে কি - একটি বিমূর্ত ধারণা ,যে বা যিনি বা যারা নাকি সর্বশক্তিমান ,কৃপাময় ,সর্বোচ্চ ক্ষমতার,ভালবাসার,ক্ষমার,প্রেমের, জ্ঞানের, বিদ্যার অধিকারী ।মানুষ , যে নাকি প্রাণিত্বের সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ তার কাছে আবার সর্বোত্তম হল ঈশ্বর । মানুষ যে প্রাণিত্বের সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ তার কারণ তার চিন্তা করার ক্ষমতা, তুলনামূলকভাবে বেশি অভিযোজনের ক্ষমতা এবং পরিবর্তন তথা বিপ্লবের লিপ্সা ।বিপ্লব মানে ঝাণ্ডা , আর মিছিল নয়। বিপ্লব মানে সর্বাত্ম্ক বদল । যেদিন মানুষ আগুনের ব্যবহার শিখেছিল সেদিন বিপ্লব হয়েছিল ,যেদিন চাকা আবিষ্কার হয়েছিল সেদিন বিপ্লব হয়েছিল।এহেন বিপ্লবী ও চিন্তাশীল প্রানী মানুষ কি ঈশ্বরের স্রস্টা না ঈশ্বর মানুষের ?
মানব সভ্যতার ইতিহাসে যদি আমরা নজর দেই তো দেখব যে নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হতে হতে মানুষ ক্রমশ সে বাধা অতিক্রমের পথ শিখিয়েছে আর মানব সভ্যতা এগিয়ে চলেছে । মানব সভ্যতার ইতিহাস মূলত তার অভিযোজনের ইতিহাস । সেই ইতিহাসই দেখিয়েছে যে প্রকৃতির দুর্যোগকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে মানুষ ঈশ্বরের শরনাপন্ন হয়েছে ।
অর্থাৎ মানুষের ভীতি, অজ্ঞতা, দুর্বলতা থেকে ঈশ্বরের সৃষ্টি । ঈশ্বর আদতে এক বিশ্বাস যার বাস্তবিক অস্তিত্ব অনুভব করা যায়নি । যার রং, বর্ণ, গন্ধ, আকার সবই কল্পনায় ।
হিন্দু, খ্রিষ্টান্, ইহুদী, মুসলিম ও আর হাজারো ধর্মের বা ধর্মগুরুর অনুগামী বা বিশ্বাসীরা হয়তো এখানেই এ লেখা পড়া বন্ধ করে দেবেন । কারণ , আমার এই মতামত তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিকে আঘাত করে । তাদের ধর্মের উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন করে । তাদের ধর্মগুরুদের মিথ্যাবাদীতে পরিনত করে । না, তারা হয়তো মিথ্যাবাদী নয় । তারা হয়তো অনুভব করেছেন যে তারা ঈশ্বর কে দেখেছেন, ঠিক যেভাবে " লগে রহো মুন্নাভাই" ছবিতে মুন্নাভাই গান্ধিজিকে দেখেছিলেন । হ্যা, আমি সিজিওফ্রেনিয়ার কথা বলছি । "ঈশ্বর" নিয়ে আলোচনার মাঝে বাজার চলতি হিন্দি সিনেমার কথা বললাম বলে আপনি হয়তো হাসছেন ! কিন্তু এর থেকে সহজলভ্য উদাহরণ আর পেলাম না ।
তবু ঈশ্বরের এই অযৌক্তিক মানবিক সৃষ্টিতে তেমন অসুবিধা ছিলনা,যদি এর দ্বারা কোনো ক্ষতি না হত । শতহোক ভীতি মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য । জনবিশেষে তার পরিমান ভিন্ন । এই ভীতি নামক এই মানসিক পীড়ার এক দাওয়াই ঈশ্বর নামক অদৃশ্য প্রতিস্ঠানটি।
না ,ঈশ্বর ঠিক কোনও প্রতিস্ঠান নয় । তিনি বিমূর্ত ,তিনি কল্পনা । এই বিমূর্ত কল্পনার উপর ভর করে গড়ে উঠেছে কিছু প্রতিস্ঠান । যাদের আদিরূপ হল ধর্ম । ভাষা যদি মানুষের মধ্যে বিভেদের প্রথম কারণ হয় , তো ধর্ম প্রধান।
সমস্ত ধর্মই সার্বভৌম ভ্রাতৃত্বের কথা বলে , কিন্তু ভ্রাতৃত্ব আজ ভঙ্গুর শুধুমাত্র ধর্মের জন্য । উদাহরণ দিয়ে এ লেখা বাড়ান অর্থহীন । তার চেয়ে বরং খতিয়ে দেখি সব ধর্মই কেন একই দাবি করে এবং সবাই কেন ব্যর্থ । আসলে, মানুষ যেদিন বুঝেছে একা থাকায় সুখ নেই , সেদিন সে দল গড়েছে আর সেদিনই সে ক্ষমতার আস্বাদ পেয়েছে । ঈশ্বর , হল সেই ক্ষমতার অন্যতম চাবিকাঠি । ভবিষ্যতের ভীতি , এই ধারণাকে সম্বল করে যেমন হাজারো Insurance company আজ মুনাফা লুটছে ,তেমনি ধর্ম তথা ধর্মগুরুরা ।
এদেশের হাজারো পৌরাণিক কাহিনী সাক্ষী আছে মুনি,ঋষিদের অভিশাপের ভয়ের ।এই ক্ষমতায়নের জন্য বলপ্রয়োগ হয়েছে বারবার। ভারতবর্ষের মুঘল আমল বা তার পূর্ববর্তী পশ্চিম্-মধ্য এশিয়ার শক্তিদের আক্রমণের যুগে জোর করে ইসলামে দীক্ষা দেওয়া হয়েছে । ইওরোপীয় শক্তি সেভাবেই খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষা দিয়েছে । এই হাল আমলে মঙ্গলে যখন পৌছে গেছে ভারতীয়যান তখন আবার হিন্দু ধর্মগুরুরা "ঘর ওয়াপ্সি" নামক হিন্দুত্বকরণের কর্মসূচী নিয়েছে ।
আসলে ধর্মের প্রতি আনুগত্য মানে ধর্মগুরুর প্র্তি আনুগত্য । ধর্মগুরুর প্র্তি আনুগত্য সেই ধর্মগুরুর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । এই ক্ষমতায়নে ঋদ্ধ ধর্মগুরুই তার ভক্ত্দের চালিকাশক্তি । এহেন ক্ষমতার ভরকেন্দ্ররা বরাবরই রাস্ট্র্শক্তির ধারক ও বাহক ।
তাহলে কি শুধুমাত্র ভবিষ্যতের অজ্ঞতা, ভীতি ,ক্ষমতায়নের দুষ্ট চক্রান্ত ই এহেন বিষবাষ্প সম্পন্ন ধর্মের দাসত্ব করতে বাধ্য করেছে মানুষকে ? উত্তরটি একই সাথে হ্যা এবং না । ভবিষ্যতের অজ্ঞতা, ভীতি,ক্ষমতায়নের দুষ্ট চক্রান্ত অবশ্যই কারণ , কিন্ত আরও বড় কারণ রাস্ট্রশক্তির পরিচালনার ব্যর্থতা ।
যখনই কোনও নতুন শক্তি আক্রমণ করেছে । তখনই ধ্বংসের ক্রমান্বয় ধারাবাহিক প্রয়োগ ঘটেছে । অত্যাচারে ধস্ত সাধারণ নরনারীর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে । তখনই ধর্মীয় সংগঠন গুলিকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক কাজকর্মের ডালি নিয়ে । ত্রস্ত মানুষ তাদের আশ্রয় খুজেছে, ধর্মকে বিপদের দিনে খড়-কুটোর মত জড়িয়ে ধরেছে ।
আবার যখনই রাস্ট্র তার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে , তখনই বিদেশি শক্তি ধর্মের ভেক ধরে তছনছ করে দিয়েছে । যেভাবে আজ ISIS সিরিযার আল আসাদ সরকারকে আক্রমণ করেছে । উঃ পূঃ ভারতে চীন আক্রমণ করেছে ,কাশ্মীরে পাকিস্তান আক্রমণ করেছে ।
অর্থাৎ, ধর্ম হল সেই দু মিনিটে তৈরী স্বাস্থ্যকর খাবার, বাস্তবিক যা খেলে ক্যানসার হতে পারে! আদতে ধর্মের মূলে যে ঈশ্বর , তার অস্তিত্বই অনাবিষ্কৃত । তার অস্তিত্বের যাবতীয় যুক্তি ই আমাদের অজ্ঞতার উত্তর । আমরা যদি নিজেদের অজ্ঞতাকে স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ না করি তাহলে ঈশ্বর অপ্রয়োজনীয় ।ধর্ম ততোধিক !
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)